জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টার দিকে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াটিলা মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চারটি ছোরা, একটি লম্বা রামদা ও সাতটি কালো মুখোশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার বাগান বাজার ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন (২৩), ফেনী সদর থানার ফাজিলপুর ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার বেলায়েত হোসেন (৩০) এবং জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের গেড়ামারা এলাকার মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুন (৩৬)। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াটিলা থেকে কয়লা বাজার পর্যন্ত এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় জোরারগঞ্জ থানার এসআই মো. আকরামুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনাকালে করেরহাট ইউনিয়নের নয়াটিলা মাজারের পূর্ব পাশে মহাসড়কের উত্তর পাশের জঙ্গলে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী দলকে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করতে দেখেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অন্যরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করে যে তারা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আলাউদ্দিন ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানাতেও তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড