রূপসা প্রতিনিধিঃ রূপসায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে রূপসার ৭৬ টি পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য গণ নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দর্শনার্থীদের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এ উপলক্ষে রূপসা উপজেলার ৭৬ টি পূজামন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করবে ৫১০জন আনসার সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছে ৩৫৮ জন প্রশিক্ষিত পুরুষ ও ১৫২ জন নারী সদস্য। ২৭ জন সেকশন কমান্ডার এবং ৭৬জন সহকারী সেকশন কমান্ডারের অধিনে মহালয়াসহ দুর্গাপূজা চলাকাল এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এ সকল আনসার সদস্যবৃন্দ। এছাড়া রূপসায় ৭৬টি মন্ডপের মধ্যে ২৭ মন্ডপ রয়েছে ঝুঁকি পূর্ণ যে কারণে ২৭টি মন্ডপে অতিরিক্ত আনসার সদস্য থাকবে। তাছাড়া প্রতিটি পূজা মন্ডোপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মন্ডপের ইনচার্জরা বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবে। দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা নিজেদের পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিজেরা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে বলে ও জানাযাচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করবে। এ ব্যপারে রীপসা উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা অজিত কুমার ঘোষ জানান আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্তির লক্ষ্যে রূপসা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার জাহিদ জানান কোন ভাবেই বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের ও স্বক্রীয় ভুমিকা থাকবে। সাথে সাথে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল রূপসাবাসীর নিকট আহবান থাকবে কোন দুষ্কৃতকারী যেন শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সে বিষয় সকল রূপসাবাসী স্বচেষ্ট থাকবেন।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..