রূপসা প্রতিনিধিঃ রূপসা উপজেলার ঐতিয্যবাহি মহাবিদ্যাপীঠ আলাইপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আবু সাইদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়োগ বাণিজ্যে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া অডিট, শিক্ষকদের টিউশন ফি ও কর্মচারীদের বেতন আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের বেতন, ফরম প্লাব, পরীক্ষার ফি বাবদ অর্থ সহ একাধিক নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য আঃ হালিম শেখ। এতে করে সরকারিভাবে বিপদে পড়ে যান তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি এস এম হাবিব ও অধ্যক্ষ আবু সাইদ। এস এম হাবিব রূপসা উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তৎকালীন এমপি আব্দুল সালাম মুর্শিদির একান্ত লোক হওয়ায় উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দিতে আঃ হালিমের সঙ্গে নগত অর্থের চুক্তির মাধ্যমে রফাদফা করেন। আঃ হালিম শেখ জানায় দুর্নীতির কিছু টাকা ফেরত দিলে উক্ত টাকা দিয়ে কলেজের বাউন্ডারি সহ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয় যে কাজ এখনো দৃশ্যমান।অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত ৫ই আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আলাইপুর ডিগ্রি কলেজে পালিত হয়নি কোনো কর্মসূচি। বরং অধ্যক্ষ আবু সাইদের নির্দেশে বন্ধ করে রাখা হয় কলেজ। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনের সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান অধ্যক্ষ আবু সাইদ। এতে করে বোঝা যায় এখনো আওয়ামী লীগ মুক্ত হতে পারিনি আলাইপুর কলেজ। ওই দিন পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ ও বন্ধ রাখায় স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও বিএনপি নেতারা সহ ছাত্র আন্দোলনের অনেক ছাত্র অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও গভর্নিং বডির সভাপতি এ বি এম কামরুজ্জামানের সাথে আঁতাত করেন মৃত (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ আল মামুন সরকার ও আবু সাঈদ খান। ১৫ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে তিনি প্রথমে আলাইপুর ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে প্রতিষ্ঠিত হন। পরবর্তীতে ২০২৩ ইং সালে আবার মোটা অংকের অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন তিনি।
আরও জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ পদে থাকাকালেই তিনি নিজের পদটি আনুষ্ঠানিক ভাবে শূন্য না করেই জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এমনকি একই মাসে উপাধ্যক্ষের পদ ও বেতন দুর্নীতির মাধ্যমে বহাল রেখে টাকা উত্তোলন করেন। নিজের অনিয়ম দুর্নীতি লুকাতে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তিনি গভর্নিং বডির বহির্ভূত ব্যক্তি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম হাবিবকে জোরপূর্বক ব্যাংকের যৌথ হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব দেন। কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর ধরে সোনালী ব্যাংকের হিসাব পরিচালনা করে শিক্ষকদের টিউশন ফি, কর্মচারীদের বেতন সহ কলেজ উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টি-আর, কাবিটা এবং এডিবি (ADB) অনুদানের বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটে নিয়েছে।
আলাইপুর ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক অধ্যক্ষ, নাইট গার্ড এবং দুইজন ল্যাব সহকারীসহ মোট চারজন কর্মচারী নিয়োগে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মত বাণিজ্য করেছেন অধ্যক্ষ আবু সাঈদ খান ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি ২২ আগস্ট ২০২৩ সালে সংবাদপত্রে উপাধ্যক্ষ (১ জন) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী/এমএলএসএস (১ জন) পদে নতুন একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বেই উপাধ্যক্ষ পদের জন্য ১৭ লাখ টাকা এবং এমএলএসএস পদের জন্য ৮ লাখ টাকার গোপন চুক্তি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয় ২০২১ সালে মন্ত্রণালয়ের অডিট রিপোর্ট পাওয়ার জন্য কলেজের প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারী এক মাসের বেতনের অর্ধেক টাকা কেটে নেন আবু সাঈদ খান। একসময় শিক্ষক ও কর্মচারী গং জানতে পারে সেখানে কোন টাকার লেনদেন করা হয় নাই। একথা জানাজানি হলে পরবর্তীতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের অর্ধমাসের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
দিলেও আজও পর্যন্ত উক্ত টাকা ফেরত দেননি। অধ্যক্ষের ছত্রছায়ায় কলেজে চলছে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার স্বর্গরাজ্য। অভিযোগ মতে, কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুধাংশু গাইন বছরের পর বছর ১ থেকে ২ মাস দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দেশে ফিরে নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে পেছনে ব্যাকডেটে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সরকারি বেতন-ভাতা তুলে নেন। গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষক অধ্যক্ষ আবু সাঈদ খানের একান্ত সহযোগী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রধান হাতিয়ার। কলেজ প্রশাসনে অধ্যক্ষ আবু সাঈদ খানের অরাজকতা, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের থলে উন্মোচিত হওয়ায় ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সুশীল সমাজ ও অভিভাবক সদস্যরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে
কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুধাংশু গাইনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার স্ত্রী দুরারোগ্য ব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করি এবং তা রেজুলেশন ভুক্ত করে আমাকে ছুটি মঞ্জুর করা হয়। সে মোতাবেক আমি নিয়ম তান্ত্রিক ছুটি ভোগকরেছি। তাছাড়া আলাইপুর কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আবু সাঈদ খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি সম্পুর্ণ অভিযোগ অস্বিকার করেন। তিনি বলেন সরকারি বিধিমোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সমপন্ন হয়েছে নিয়োগে কোন প্রকার বানিজ্য বা অনিয়ম হয় নাই।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..