আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মোল্লাহাটে সংবাদ সম্মেলনে মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ও ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি সোনারগাঁও ফ্লাইওভারের দাবিতে মানববন্ধন রূপসায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব রূপসায় বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে চাঁদা দাবিতে জমি দখলের অভিযোগ, আদালতে মামলা মোংলায় নিখোঁজ নারী হত্যার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার মোংলায় নিখোঁজ নারী হত্যার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনারগাঁও মা সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোংলায় হোমিও চিকিৎসককে বড় ছুরি নিয়ে হামলা সোনারগাঁও দেশীয় মদ কেরু সহ আটক ২ মোল্লাহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন রূপসায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত মোল্লাহাটে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রূপসায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার.
ad728

সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক, দুই দিনে অপহৃত ২১

প্রতিবেদকের তথ্য : Dainik Somoy Sangbad
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 33
ছবির ক্যাপশন :

সুন্দরবনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। দস্যুদের কথিত চাঁদার ‘কার্ড’ না থাকলেই জেলেদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে মাত্র দুই দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২১ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলে, মহাজন ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া, নারিকেলবাড়ীয়া ও ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদীতে পৃথক ঘটনায় জেলেদের অপহরণ করা হয়। এর আগে একই সময়ে সুন্দরবনের আরও কয়েকটি এলাকা থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় সশস্ত্র অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জেলেবহরে হামলা চালায়। পরে বিভিন্ন নৌকা থেকে ১৫ জেলেকে জোর করে একটি ট্রলারে তুলে নিয়ে যায় তারা। শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বিষয়টি জানিয়েছেন।

অপহৃত ১৫ জেলের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—খুলনার আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০) ও ফেরদাউস (২৮)। বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)। এছাড়া মোংলার উলুকাটা-চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০) রয়েছেন।

বন বিভাগের অনুমতিপত্র বা ‘পাশ’ নিয়ে এসব জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

তবে সুন্দরবনের স্থানীয় জেলে ও মহাজনদের অভিযোগ, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দস্যুদের কথিত চাঁদাবাজির নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত চাঁদা দেওয়ার পর পাওয়া কথিত ‘কার্ড’ থাকা নৌকার জেলেরা তুলনামূলক নিরাপদে চলাচল করতে পারলেও কার্ড না থাকা নৌকার জেলেদের টার্গেট করছে দস্যুরা। স্থানীয় মহাজনদের ভাষ্য, প্রতি ‘গোনে’ প্রায় ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে কথিত এসব কার্ড সংগ্রহ করতে হয়।

জেলে-মহাজনদের অভিযোগ, কার্ডবিহীন জেলেদের অপহরণের পর তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোংলার এক জেলে মহাজন জানান, শনিবার রাতে কথিত করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে মাসুদ ও ইমদাদুলকে ধরে নিয়ে যায়। একইভাবে মেহেরআলী এলাকা ও শ্যালা নদীর মুখসহ আরও কয়েকটি স্থান থেকে কথিত ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

একের পর এক জেলে অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনে আবারও দস্যু তৎপরতা কীভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বন বিভাগের বৈধ ‘পাশ’ নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

ডিএফও মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি এসআরবি, কোস্টগার্ড ও বন প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত এবং নিরাপদে উদ্ধারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে জেলে-মহাজনরা বলছেন, শুধু অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। সুন্দরবনে দস্যুদের কথিত চাঁদাবাজি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় দস্যু আতঙ্কে সুন্দরবনে মাছ ধরার কার্যক্রম আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728