চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে যে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তা এখন অনেকটাই লোক দেখানো নাটকে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন জিইসি মোড়, কাজীর দেউড়ি, নিউ মার্কেট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুরে প্রায় প্রতিদিনই মেয়র নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ নগরবাসীই।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়র যেখানে অভিযানে যাবেন সেই খবর আগেই কোনো না কোনোভাবে ফাঁস হয়ে যায় হকারদের কাছে। ফলে মেয়র ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনেক আগেই হকাররা তাদের ভ্যান, ঠেলাগাড়ি এবং কাপড়-চোপড় সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আশপাশের অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। গতকাল জিইসি মোড়ের অভিযানের সময়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মেয়র আসার আগ মুহূর্তে কীভাবে হকাররা তাদের গাড়ি ঠেলে দ্রুত গলির ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে মেয়র যখন মূল সড়কে আসেন, তখন ফুটপাত অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়।
আরেকটি চিত্র আরও চমকপ্রদ। মেয়র ও তার টিম স্থান ত্যাগ করার সাথে সাথেই আবার সেই হকাররা তাদের পূর্বের জায়গায় ফিরে আসে। দশ মিনিটের ব্যবধানে পুরো ফুটপাত আবার দখল হয়ে যায়। পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। মূলত এভাবেই চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। মেয়র আসেন, হকার সরে যায়, মেয়র চলে যান, হকার ফিরে আসে।
এই ধরনের অভিযানে নগরীর প্রকৃত কোনো লাভ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, বারবার অভিযানের নামে এই নাটক না করে একবারে স্থায়ী সমাধানের দিকে যাওয়া উচিত। শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট একটি স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য একটি শক্তিশালী টিম গঠন করতে হবে যারা মেয়র না থাকলেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অভিযানের তথ্য কীভাবে আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, সেই উৎস খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া।
নগরবাসী এখন আর আশ্বাসের বাণী শুনতে চায় না, তারা চায় দখলমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং পথচারীবান্ধব ফুটপাত। লোক দেখানো এই অভিযান বন্ধ করে কবে নাগাদ কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..