খুলনা জেলা প্রতিনিধি :
প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে দীর্ঘ নয় বছরের প্রেমের সম্পর্ক, এরপর বিয়ে ও এক বছরের দাম্পত্য,অবশেষে দুই সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন খুলনা বয়রা বাজারের ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ,ক্রমাগত হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নিজের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা এবং পাওনা অর্থ আদায়ের দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী কুলসুমের ভাষ্যমতে, হারুনুর রশিদ দীর্ঘ নয় বছর যাবত প্রথম বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরবর্তীতে তাঁদের বিয়ে হলেও দাম্পত্য জীবন এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। সম্পর্ক চলাকালে ও বিয়ের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে সম্পর্কের ইতি টানার পর পাওনা অর্থ ফেরত চাওয়া হলে তা দিতে অস্বীকার করা হয়। উল্টো কুলসুমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে।
স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কুলসুম। বাচ্চাদের ভরণপোষণ, ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একদিকে অর্থ হারানোর অনিশ্চয়তা,অন্যদিকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে চরম মানসিক ও শারীরিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কুলসুম জানান, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
ভুক্তভোগী কুলসুম বলেন, আমি অন্যায় কোনো কিছু দাবি করছি না। আমার থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, আমার দুই সন্তানের ভরণপোষণ ও অধিকার এবং আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ পূর্বে খুলনার বিখ্যাত সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের পরিবারের সুরক্ষায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
উপরোক্ত বিষয় রিনা পারভীন ও (বিমানবালা) নদীর নামে সোনাডাঙ্গা মড়েল থানায় জিডি করেন। খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকার কুলসুম বেগম বাদী হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর জিডিটা দায়ের করেন। যার জিডি নং-১৫৯৩। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন রিনা পারভীন ও নদী তাকে বিভিন্ন সময় জীবন নাশের হুমকি দিয়ে চলেছে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..