বড় ছুরি হাতে হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে অতর্কিত হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি—একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাটের মোংলায় বাবুল মোল্লা ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন হোমিও চিকিৎসক মোঃ নূর আলম চালী (৪০)। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে ক্যাশে থাকা ১৯ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের টেপামারী ব্রিজসংলগ্ন চিকিৎসকের হোমিও দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে ঢুকে ছুরি হাতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাবুল মোল্লা ওরফে বাবু (৩৭) তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা গ্রহণের সূত্র ধরে চিকিৎসক নূর আলমের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। এরপর চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, অপমান ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেন নূর আলম। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাওয়ার পর অভিযুক্ত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে দাবি তাঁর।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাবু অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রে আসেন। একপর্যায়ে বড় ছুরি হাতে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে অতর্কিতে হামলা ও মারধর করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় চিকিৎসাকেন্দ্রের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নূর আলম। তাঁর দাবি, দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ১৯ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যান অভিযুক্ত। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযুক্ত বাবুকে ঘিরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলা, অপরাধের রেকর্ড কিংবা অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নূর আলম।
একজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে ঢুকে ছুরি নিয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার চান এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান।
এ ঘটনায় মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল মোল্লা ওরফে বাবুর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।#
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড