Logo
প্রিন্টের তারিখ: 15 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 15, 2026

সংবাদ শিরোনাম : স্বর্ণালংকার চুরির পর স্ত্রীকে ‘হত্যার’ অভিযোগ, বাথরুমে ঝুলছিল মরদেহ!

স্বর্ণালংকার চুরির পর স্ত্রীকে ‘হত্যার’ অভিযোগ, বাথরুমে ঝুলছিল মরদেহ!
মোঃ আবু বকর সিদ্দিকঃ
বাগেরহাটের রামপালে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগের পর এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ৬ অক্টোবর ২০২৬, আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে বাথরুমের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অর্পিতা রায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মরদেহ যেভাবে ঝুলছিল, তাতে পা মাটিতে ঠেকে থাকার বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার পর নিহতের স্বামী সবুজ রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা-মা ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের হাসি বিশ্বাস ও বিজন বিশ্বাসের মেয়ে অর্পিতা রায়ের সঙ্গে সবুজ রায়ের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন নিহতের মা হাসি বিশ্বাস। তিনি মোংলা ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভাব-অনটনের কারণে অর্পিতা ও তার স্বামী সবুজ রায় প্রায়ই শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকতেন। হাসি বিশ্বাসের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার কোথায় রাখা হয়, সে বিষয়েও জামাই সবুজ রায় জানতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় মেয়েকে ওই স্বর্ণালংকার ব্যবহার করতে দেওয়া হতো।
১৫ আগস্ট ২০২৬ অর্পিতা ও তার স্বামী সবুজ রায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। দুই দিন থাকার পর তারা চলে যান। এরপর ঘরে ঢুকে হাসি বিশ্বাস দেখতে পান, তার বড় বাক্সের কড়া ভাঙা। ট্রাংকের ভেতরে রাখা স্বর্ণালংকার ও গয়নার ব্যাগও নেই।
এরপর বিভিন্ন জুয়েলার্সে খোঁজ নিতে শুরু করেন তিনি। দিগরাজ বাজারের পর্দা জুয়েলার্সে বিশ্ব পোদ্দারের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ১৭ আগস্ট সবুজ রায় একটি স্বর্ণের আংটি সেখানে বন্ধক রেখে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন—এমন দাবি করেছেন হাসি বিশ্বাস।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গুনাই ব্রিজ বাজারে দুই পক্ষের লোকজন বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সেখানে সবুজ রায় ও তার স্বজনরা বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন। পরে স্থানীয় আমান সরদার, জয়ন্ত পাইক ও নাসীর হোসেনসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
এরপরই ঘটে রহস্যজনক মৃত্যু
পরিবারের অভিযোগ, ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে অর্পিতাকে তার স্বামীর বাড়ির বাথরুমের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহের অবস্থান এবং পা মাটিতে ঠেকে থাকার বিষয়টি দেখে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাদের দাবি, অর্পিতাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা-মায়ের আরও অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকারের জন্য চিতায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাটের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে স্বামী সবুজ রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিহতের বাবা-মায়ের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
নিহতের পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগের সঙ্গে অর্পিতার রহস্যজনক মৃত্যুর যোগসূত্র রয়েছে। তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। মরদেহের অবস্থান, মৃত্যুর আগে-পরে ঘটনাপ্রবাহ এবং স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ—সবকিছু গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সবুজ রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সবুজ রায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পরই অর্পিতা রায়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।#
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময় সংবাদ
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ বিডি আই’টি সাপোর্ট
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF