Logo
প্রিন্টের তারিখ: 15 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 15, 2026

সংবাদ শিরোনাম : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এখন বালু-মাটি ও পাহাড় কাটার স্বর্গরাজ্য, দেখার কেউ নেই!

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এখন বালু-মাটি ও পাহাড় কাটার স্বর্গরাজ্য, দেখার কেউ নেই!
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা এখন বালু, মাটি ও পাহাড় কাটার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চলছে অবাধে বালু লুট, ফসলি জমির মাটি কাটা ও পাহাড় নিধনের মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এসব চললেও যেন দেখার কেউ নেই। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। ভিডিওতে যেমন দেখা যাচ্ছে, নদী ও খালের পাড় কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। ড্রেজার ও পাইপ বসিয়ে রাতদিন চলছে বালু উত্তোলন। ফলে নদী ভাঙন, ফসলি জমি বিলীন এবং পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে, আবার পাহাড় কেটে সমতল করে বিক্রি করছে প্লট হিসেবে। দিনে-দুপুরে এক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে সরকারি খাস পাহাড় ও টিলা। বিশেষ করে আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও চুনতি ইউনিয়নে পাহাড় কাটার তান্ডব সবচেয়ে বেশি। বর্ষা মৌসুমে এই পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, তবুও থামছে না এই কাটা। পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে বালু-মাটি ও পাহাড় কাটা চলতে থাকলে লোহাগাড়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস হয়ে যাবে। নদী তার গতিপথ হারাবে, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হবে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয় না। অভিযান হয় লোক দেখানো। অভিযানের পরপরই আবার শুরু হয় লুটপাট। এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে লোহাগাড়ায় অবৈধ বালু, মাটি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময় সংবাদ
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ বিডি আই’টি সাপোর্ট
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF